বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড সম্মেলন : সবুজ ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা শি জিনপিংয়ের

Total Views : 62
Zoom In Zoom Out Read Later Print

অনলাইন ডেস্ক : চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ অবশ্যই সবুজ ও টেকসই হবে। শুক্রবার বেইজিংয়ে আয়োজিত দ্বিতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশাল অবকাঠামো ও বাণিজ্য পরিকল্পনা প্রত্যেকের জন্য ‘শক্তিশালী’ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসবে। খবর রয়টার্স।

চীনের সঙ্গে এশিয়া, ইউরোপ তথা পুরো বিশ্বকে যুক্ত করার লক্ষ্যে অতীতের সিল্ক রোড পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টায় ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ ঘোষণা করেন শি। ব্যাপক সাড়া ফেললেও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উচ্চ ব্যয় বিভিন্ন দেশে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।


উদ্যোগটি সফল করতে কী পরিমাণ অর্থ লাগবে চীন তা না জানালেও কিছু স্বাধীন সংস্থার আনুমানিক হিসাবে বলা হচ্ছে, অন্তত কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার এ উদ্যোগে ব্যয় করতে হবে। বেইজিং থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, তারা কাউকে ঋণে জর্জরিত করতে চাচ্ছে না, স্রেফ ভালো উদ্দেশ্যেই তারা এগোচ্ছে। ২৫ এপ্রিল শুরু হওয়া সম্মেলনটিতে মিত্রদেশগুলোর সামনে নিজেদের নীতি পুনর্ব্যক্ত করাসহ বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দেবে চীন।


শুক্রবার উদ্বোধনী ভাষণে আমাদের সবার অভিন্ন বাসস্থান এ পৃথিবীকে সুরক্ষার ওপর জোর দেন শি। তিনি বলেন, আমাদের উদার, সবুজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নীতি মেনে চলতে হবে।


ভাষণে শি আরো বলেন, উচ্চমানসম্পন্ন, টেকসই, ঝুঁকি প্রতিরোধী, যুক্তিসংগত ব্যয়ে সমন্বিত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে প্রতিটি দেশের সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে সহায়তা করবে এ উদ্যোগ।


২০১৭ সালের প্রথম সম্মেলনের চেয়ে এবারের সম্মেলনের পার্থক্য হলো—তখন শি বলেছিলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে সহায়তায় চীনা ব্যাংকগুলো ৩৮ হাজার কোটি ইউয়ান (৫ হাজার ৬৪৩ কোটি ডলার) ঋণ দেবে। কিন্তু এবার নতুন অর্থায়নের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি। তবে আজ শনিবার আরেকটি বক্তৃতা দিতে পারেন শি, যেখানে হয়তো নতুন অর্থায়নের প্রসঙ্গ আসতে পারে।


পশ্চিমা দেশগুলো বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগকে বৈশ্বিক চীনা প্রভাব বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। দরিদ্র দেশগুলোকে চীনের ঋণে বেঁধে ফেলার টোপ মারা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত তাদের।


বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পগুলো পরিকল্পনামাফিক এগোলেও কয়েকটি দেশে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়ায় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আর্থিক কারণে কিছু প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তানের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিয়েরা লিওনে একটি বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ স্থগিত করার বিষয়টি এখানে উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সমালোচকদের প্রতি পাল্টা জবাবে বেইজিং বলছে, তারা কোনো দেশকেই তথাকথিত ‘ঋণফাঁদে’ বাঁধেনি।


২০১৭ সালের পর থেকেই ২৮টি দেশের অর্থ মন্ত্রণালয় বেল্ট অ্যান্ড রোডভুক্ত দেশগুলোর সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোর প্রতি ঝুঁকি মোকাবেলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি, স্থিতিশীল ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


২০১৩ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ চালু করেন শি। রেফিনিটিভ ডাটার বরাতে জানা গেছে, এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, ওশেনিয়া অঞ্চলজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩ দশমিক ৬৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।


উদ্বোধনী ভাষণে শি বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ চীনের জন্য উন্নয়নের সুযোগ উন্মোচিত করবে। একই সঙ্গে বিশ্বের জন্য চীনের বাজার আরো উন্মুক্ত করবে।


বিদেশী বিনিয়োগের নেতিবাচক তালিকা লক্ষণীয়ভাবে ছোট করে ফেলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন শি। চীনে বিদেশী কোম্পানিগুলো যেন অধিক শেয়ার গ্রহণ করতে পারে বা বিভিন্ন খাতে সম্পূর্ণ মালিকানাধীন কোম্পানি চালু করতে পারে, সেদিকে এগোচ্ছেন বলে জানান তিনি। শুল্ক কমানোর পাশাপাশি নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ারগুলো তুলে দেয়া হবে বলেও জানান শি।


এছাড়া চীন আরো পণ্য ও সেবা আমদানি বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। বাণিজ্য ভারসাম্য অর্জনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কৃষিপণ্য ও সেবা আমদানিতে আগ্রহ রয়েছে চীনের।


২৫-২৭ এপ্রিল বেইজিংয়ে চলমান বেল্ট অ্যান্ড রোড সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুজেপ্পে কন্তে। উল্লেখ্য, জি৭ভুক্ত দেশ হিসেবে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে অংশ নেয়া দেশ হচ্ছে ইতালি।


বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে সম্পৃক্ত নয় যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সম্মেলনে ওয়াশিংটন থেকে কোনো প্রতিনিধি থাকছে না, তবে বেইজিং দূতাবাসের কনিষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারেন।

See More

Latest Photos