সাক্ষাৎকারে কী বলেছেন আইএসের শামিমা

Total Views : 104
Zoom In Zoom Out Read Later Print

পুত্রসন্তান জন্ম দেয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টেলিভিশন চ্যানেল স্কাই নিউজকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইএসে যোগ দেয়া বৃটিশ যুবতী শামিমা বেগম। শনিবার তিনি সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে ওই পুত্রের মা হন। ওই সাক্ষাৎকারে শামিমা বলেছেন, তিনি আশা করেন বৃটিশ জনগণ তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে। কারণ, তিনি ২০১৫ সালে যখন বৃটেন থেকে পালিয়ে সিরিয়া গিয়েছিলেন তখন জানতেন না, সেখানে জীবন কেমন। তাকে ঘিরে বৃটেনে এখন জোরালো বিতর্ক। সেই শামিমা স্কাই নিউজকে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তা এখানে তুলে ধরা হলো প্রশ্ন: আইসিসের (আইএস) কোন বিষয়টি আপনাকে আকৃষ্ট করেছিল?

শামিমা: তারা আমাকে দেখিয়েছিল, তুমি কীভাবে যাবে। যাওয়ার পর তারাই আমার দেখাশোনা করবে। সেখানে আমি আমার নিজের একটি পরিবার পাবো।


আমি যা খুশি তাই করতে পারবো। আমাকে থাকতে হবে ইসলামিক আইনের অধীনে। 

প্রশ্ন: যখন আপনি সিরিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়লেন তখন আইসিস সেখানে কি করছিল তা কি জানতেন? তারা তো শিরশ্ছেদ করছিল? 

শামিমা: এসব বিষয়ে আমি জানতাম। প্রথমে এটা মেনে নিয়েছিলাম। দেশ ছাড়ার ঠিক আগে আমি ধার্মিক হতে শুরু করেছিলাম। আমি শুনেছি, ইসলামে এটা (শিরশ্ছেদ) অনুমোদিত। 

প্রশ্ন: আপনার নাগরিকত্ব নিয়ে যে লড়াই চলছে সে বিষয়ে আপনার অনুভূতি কি?

শামিমা: আমি যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তাতে মনে করি আমার প্রতি সহানুভূতি দেখানো উচিত বহু মানুষের। আমি তো জানতাম না কিসের  ভেতর যাচ্ছি। আশা করি আমার ও আমার শিশু সন্তানটির জন্য আমাদের ফিরতে দেয়া হবে। এই শরণার্থী শিবিরে আমি চিরদিন থাকতে পারবো না। 

প্রশ্ন: কিন্তু বৃটিশ সরকার ও নিরাপত্তা সার্ভিসগুলো মনে করছে আপনি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

শামিমা: আমি যে বিপজ্জনক হবো এমন কোনোই প্রমাণ নেই তাদের কাছে। চারটি বছর আমি শুধুই একজন গৃহবধূ (হাউজ ওয়াইফ) ছিলাম। আমি এ সময়ে শুধুই ঘরের ভেতরে অবস্থান করেছি। আমার স্বামী ও পরে আমাদের সন্তানের দেখাশোনা করেছি। বিপজ্জনক বা ডেঞ্জারাস কিছুই আমি করিনি। আমি কখনো প্রপাগান্ডা চালাইনি। কখনো লোকজনকে সিরিয়া আসতে উৎসাহিত করিনি। 

প্রশ্ন: আপনার পরিবার একটি আপিল করেছে। তাদের জন্য কি আপনার কোনো বার্তা আছে?

শামিমা: না। কিছুই বলার নেই। শুধু বলি, আমাকে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। এই শরণার্থী শিবিরে আমি আমার শিশুটিকে বড় করতে চাই না। আমার ভয় হয়, সে এখানেই মারা যাবে। 

প্রশ্ন: বৃটেনে ফিরে গেলে আপনি ও আপনার শিশুর জীবন কেমন হবে?

শামিমা: আমি জানি না সেখানে গেলে কেমন হবে আমার জীবন। আমি এটা জানি, বৃটেনে ফিরে গেলে আমার ওপর প্রচুর বিধিনিষেধ আসবে। আমি জানি না, তারা (সরকার) আমার সন্তানকে আমার কাছ থেকে নিয়ে নেবে কিনা। এটাই আমার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। আমি তো সিরিয়া ছাড়বো শুধু তার (সন্তান) জন্য। আমি শুধু তাকে একটি উন্নত জীবন দিতে চাই। 

প্রশ্ন: যদি কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে আপনার কাছ থেকে নিয়ে নেয় তাহলে তা মানবেন?

শামিমা: কি কারণে তাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হবে তার কোনো কারণ খুঁজে তো পাই না। এমনটা মেনে নেয়া খুব কঠিন হবে। 

প্রশ্ন: আপনি যেসব ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছেন তার কারণে উদ্বেগ আছে। মনে করা হয়, আইসিসের বিষয়ে আপনি উগ্রপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

শামিমা: সন্তানটিকে আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়ার আগে এ বিষয়ে তারা (সরকার) আমাকে প্রশ্ন করতে পারে। জানতে চাইতে পারে। 

প্রশ্ন: আপনি কি মানিয়ে নিয়ে পুনর্বাসিত হতে পারবেন?

শামিমা: এখনো আমার মানসিকতায় ঘোরে মাথার উপর বিমান। জরুরি ব্যাকপ্যাক সঙ্গে। বৃটেনে ফিরে যাওয়া বাস্তবেই একটি কঠিন হতাশার হবে। 

প্রশ্ন: আপনার বান্ধবী আমিরা আব্বাস কি জীবিত আছেন কিনা জানেন?

শামিমা: দীর্ঘ দিন তার দিক থেকে কোনো খবর পাই না। 

প্রশ্ন: আপনার আরেকজন বান্ধবী খাদিজা সুলতানা মারা গেছেন। এ খবর পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন হয়েছিল?

শামিমা: এটা ছিল আমার জন্য বড় একটি আঘাত। কারণ, এটা ঘটেছিল শুরুর দিকে। আমরা বৃটেন ছেড়ে আসার এক বছর পর ঘটেছিল এ ঘটনা। এখন যদি আমি শুনতে পাই আমিরা মারা গেছে তাহলে অতটা আঘাত পাবো না। খাদিজা যখন মারা যায় তখন রাকা’র অবস্থা ভালো ছিল। তার মৃত্যুর খবর একটি বড় আঘাত হিসেবে এসেছিল। 

প্রশ্ন: আপনি কি সিরিয়া এসে কোনো ভুল করেছেন?

শামিমা: একভাবে বললে বলা যায়- হ্যাঁ। কিন্তু এ নিয়ে আমি অনুশোচনা করি না। কারণ, এর মধ্য দিয়ে আমাকে একজন ব্যক্তিতে পরিবর্তন করেছে। এ ঘটনা আমাকে শক্তিশালী, কঠোর করেছে। একজনকে স্বামী হিসেবে বিয়ে করেছি। বৃটেনে তো আমার স্বামীর মতো কাউকে খুঁজে পেতাম না। তার সঙ্গে আমি সন্তান নিয়েছি। ভালো সময় কাটিয়েছি। 

কিন্তু শেষের দিকটা খুব কঠিন ছিল। আমি এসব বিষয়কে আর মেনে নিতে পারছিলাম না। আমি সরে যেতে চেয়েছি। আমার সন্তান হয়েছে এ বিষয়টি জানতে পারেনি আমার স্বামী। সে এখন কোথায় আমি তাও জানি না। জানি না, তার সঙ্গে আমাকে যোগাযোগ করতে দেবে কিনা কর্তৃপক্ষ। জানি না কীভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করবো। আমার কোনো ফোন নেই। ইন্টারনেট সুবিধা নেই। শেষ যে সাংবাদিক আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন তিনিই আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছেন। 

See More

Latest Photos