জবরদখলের রাজনীতি

Total Views : 45
Zoom In Zoom Out Read Later Print

২০০৯ সাল থেকে শুরু করে টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ শাসনের ভার আওয়ামী লীগের ওপর। দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেছে দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্য নতুন এবং বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলটি যাঁদের মনোনয়ন দিয়েছে, তাঁরাও প্রথমবারের মতো সংসদে বসতে যাচ্ছেন। সব ক্ষেত্রেই যাঁদের বেছে নেওয়া হয়েছে, তাঁরা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন বলেই তাঁদের বেছে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভা, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য সদস্য মনোনয়ন জনমনে দল সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি করলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুটিকয়েক নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড দলের সব অর্জন নষ্ট করে দিচ্ছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘আ. লীগ নেতার ভয়ংকর শাসন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তেমনই এক নেতার কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে, যিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ক্যান্টনমেন্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিরও সাধারণ সম্পাদক তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই পদের প্রভাব খাটিয়ে মানিকদী এলাকায় ‘ভয়ংকর শাসন কায়েম’ করেছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় বাড়ি দখলের চেষ্টা, জমি দখল, চাঁদাবাজির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি নিজেই ‘আদালত’ বসিয়ে বিচার করছেন। হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। বিচার না মানলে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি বিএনপির লোক বানিয়ে একাধিক মামলায় ফাঁসিয়ে কাউকে কাউকে এলাকাছাড়া করা হয়েছে। যখন বুড়িগঙ্গার পার থেকে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলে নজির স্থাপন করা হচ্ছে তখন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতার স্বেচ্ছাচারিতা নিঃসন্দেহে দল মেনে নিতে পারে না। জানা যায়, বিধবা ও প্রবাসীদের জমির দিকেই তাঁর দৃষ্টি। জমি দখলের অভিনব সব কায়দা জানা আছে তাঁর। এই নেতার দৃষ্টি যে জমিতে পড়েছে, সেই জমি মূল মালিক বিক্রি করতে গেলেও পারেন না। অন্যের জমি ভরাট করে টাকা দাবি করার রেকর্ডও আছে তাঁর। শুধু জমি দখলই নয়, দখল করা জমিতে মূল মালিকের আনা ইট-বালু-সিমেন্ট দিয়ে দেয়াল তুলে নিজের করে নেওয়ারও উদাহরণ আছে।

রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে এবার ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বারবারই উচ্চারণ করছেন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তাঁর দলেরই একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা যখন নিজের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন, অন্যের বাড়ি-জমি দখল করে নিতে চান তখন দলের ভাবমূর্তি কোথায় থাকে। এই নেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তদন্তপূর্বক দলও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে জনমনে আস্থা ফিরবে। মানুষের মনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে কোনো আস্থার সংকট সৃষ্টি হবে না।

See More

Latest Photos